ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙে ‘বরিশল’ নামে নতুন ইউনিয়ন ও উপজেলা গঠনের উদ্যোগের প্রতিবাদে রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয়েছে রেল ও সড়ক যোগাযোগ। এতে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে আখাউড়ার কোড্ডা এলাকায় ‘বাসুদেব ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।
সকাল ৬টা থেকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কোড্ডা রেললাইনের ওপর স্লিপার ফেলে এবং সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
খবর পেয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম খান রুমা। তারা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে তাদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে রেল ও সড়কপথ ছেড়ে দেন আন্দোলনকারীরা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পুনরায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
অবরোধ চলাকালে বাসুদেব ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন শের শাহ অভিযোগ করে বলেন, জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া এলাকাবাসীকে না জানিয়েই বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙে বরিশল ইউনিয়ন গঠন করেছেন। এখন আবার বরিশল নামে আলাদা উপজেলা গঠনের পাঁয়তারা চলছে। আমরা নতুন এই ইউনিয়ন বা উপজেলায় যেতে চাই না। আগের মতোই থাকতে চাই।
বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নয়ন বলেন, বরিশল এলাকাটি তাঁদের গ্রামগুলো থেকে অনেক দূরে। সেখানে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগবে এবং সাধারণ মানুষকে বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে। তাই এ সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নেবেন না।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসুদেবের এলাকাবাসীর কথা শুনেছেন তাঁরা। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন।








